ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক ।এই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে অনেকেই ফ্রী সময় কাটাচ্ছেন ।আবার অনেকেই লাখ লাখ টাকা আয় ইনকাম করছেন।
ফেসবুক থেকে আয় করতে হলে ফেসবুক পেজের ফলোয়ার কমপক্ষে ১০ হাজার হতে হবে। তাই ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে এই আর্টিকেলে। বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
- ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
- প্রোফাইল বা পেজ আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করতে হবে
- নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করতে হবে
- গ্রুপ ও কমিউনিটিতে একটিভ থাকতে হবে
- রিলস ভিডিও তৈরি করতে হবে
- মনিটাইজেশন অন করে
- হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করা
- ফলোয়ার সেটিংস ঠিক করা
- সঠিক সময়ে পোস্ট করতে হবে
- ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে পোস্ট করতে হবে
- ফেসবুকে লাইভ করতে হবে
- কমেন্ট ও ইনবক্সে সক্রিয় থাকতে হবে
- সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় ক্যাপশন ব্যবহার
- ফেসবুক অ্যাডস বা বিজ্ঞাপন ব্যবহার করুন
- পেজের রিচ ধরে রাখতে করণীয়
- ফেসবুকে ফলোয়ার কমে যাওয়ার কারন কি
- প্রায়শই জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- আমাদের শেষ কথাঃ ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
প্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। আর এই ফেসবুকের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।ছোট থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিরাও এই ফেসবুকের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়লেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে এগিয়ে আছে। তবে বর্তমানে টিকটক কে দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেসবুক প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সফলতার মুখ দেখছে।
আরও পড়ুনঃ ইমেইল মার্কেটিং করে আয় করার উপায় বিস্তারিত জেনে নিন
বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্র্যান্ড সৃষ্টি করা এবং ক্রেতা জোগাড় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়। বর্তমান সময় ফেসবুক আমাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি আয় করার উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা উদ্যোক্তা হিসাবে নিজের পরিচিতি তৈরি করা যাচ্ছে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। ফেসবুকের ফলোয়ার আপনার যত বেশি হবে আপনার ব্যক্তিগত ব্রান্ড গঠনের সম্ভাবনা তত বেশি। তবে প্রতিনিয়ত ফেসবুক তাদের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করছে ।
কিভাবে পোস্ট করলে পোস্টটি ভাইরাল হবে বা পেজের লাইক ফলোয়ার বৃদ্ধি পাবে সেটা ধরা বাধা কোন উপায় পাওয়া যাচ্ছে না।তবে ফেসবুকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক কনটেন্ট সঠিক কোয়ালিটির কনটেন্ট ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করতে হবে যাতে দর্শক আকৃষ্ট হয়। বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বের প্রায় ২.৯৪ বিলিয়ন। দিন দিন এই জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমটি আরো নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসছে। ফেসবুকের মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই রাতারাতি সেলিব্রেটি ও হন।
প্রোফাইল বা পেজ আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করতে হবে
জনপ্রিয় এই মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই কনটেন্ট তৈরি করছেন।এছাড়াও অনেকেই এই ফেসবুকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করছেন। তবে ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে হলে ফেসবুকের কিছু নিয়ম নীতি বা শর্ত রয়েছে। যেমন কমপক্ষে ১০ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে ।এবং গত ৬০ দিনের কমপক্ষে ৬০ হাজার মিনিট ভিডিও ভিউ থাকতে হবে। এছাড়াও একটি কনটেন্ট তৈরি করলে সেটি ফেসবুকের কমিউনিটির নির্দেশিকা ও মনিটাইজেশন এর নিয়ম-নীতি অনুযায়ী থাকতে হবে। ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করতে হবে। স্পষ্ট ছবি ও কভার ফটো ব্যবহার করতে হবে।
প্রোফাইল বা পেজে নিজের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল বায়োডাটা লিখতে হবে। ফেসবুক পেজে ঠিকানা, যোগাযোগ নম্বর ও অন্যান্য তথ্য আপডেট করতে হবে। আপনার নিজের সম্পর্কে যখন বিস্তারিত বায়োডাটা দেওয়া থাকবে তখন আপনার ফলোয়াররা দেখে আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। পেজে একটি পরিষ্কার লোগো বা প্রফেশনাল প্রোফাইল পিকচার ও আকর্ষণীয় কভার ফটো সেট করতে হবে।পেজের About সেকশন আপনার ব্যবসা বা কাজের সঠিক বিবরণ, ওয়েবসাইট এবং যোগাযোগের নম্বর দিতে হবে।
নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করতে হবে
ফেসবুক পেজে নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট আপলোড করতে হবে। আর আপনার মানসম্মত কনটেন্ট দেখে ফলোয়াররা ফলো করতে শুরু করবে। তথ্যবহুল পোস্ট বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি স্বাস্থ্য বিষয়ক, শিক্ষা বিষয়ক ,মজার ভিডিও ,ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা অনুপ্রেরণামূলক গল্প এবং ট্রেন্ডিং বিষয়ের উপর মতামত ও লাইভ সেশন নিয়ে পোস্ট করতে পারেন। আপনি যখন প্রতিদিন নিয়মিত পোস্ট করবেন, নির্দিষ্ট একই সময়ে পোস্ট করবেন , তখন আপনার ফলোয়াররা আপনার পোষ্টের অপেক্ষায় থাকবে।
পেজের এনগেজমেন্ট ও রিচ বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই ভালো মানের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যাতে দর্শকরা সেখান থেকে উপকৃত হয় । কনটেন্টটি শেয়ার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। আপনার পোস্ট যত বেশি শেয়ার করতে পারবেন, তত বেশি আপনার পেজ ফলো করা শুরু করবে। অর্গানিক ফেসবুক ফলোয়ার বৃদ্ধির উপায় হিসেবে এটি বেশ কার্যকরী উপায়।
গ্রুপ ও কমিউনিটিতে একটিভ থাকতে হবে
আপনার কনটেন্টের উপর নির্ভর করে টার্গেটেড গ্রুপ খুঁজতে হবে। এবং সেই গ্রুপে যুক্ত হতে হবে আপনার কনটেন্টগুলো সেই গ্রুপগুলোতে শেয়ার করতে হবে। সেজন্য প্রত্যেক গ্রুপের কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে। গ্রুপের সরাসরি লিংক শেয়ার করা যাবে না। তাই প্রথমে গ্রুপের নিয়ম নীতি জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কনটেন্ট শেয়ার করার চেষ্টা করতে হবে। আপনি যে কনটেন্টি তৈরি করবেন সেই কনটেন্টটি অবশ্যই মানসম্মত হতে হবে ।সেই কন্টেন্টের সঙ্গে ভালো মানের ভিডিও , ছবি এগুলো যুক্ত করতে পারেন যাতে করে ব্যবহারকারীরা আকৃষ্ট হয় ।এবং আকর্ষণীয় কন্টেন্ট দেখে আপনার প্রোফাইল অথবা পেজ ভিজিট করে।
রিলস ভিডিও তৈরি করতে হবে
বর্তমানে ছোট-বড়, ছোট ভিডিও বা ফেসবুকে খুব মানুষের আকর্ষণের বিষয় মানুষ বড় ভিডিও তেমন একটা দেখতে চায় না। এজন্য ছোট ছোট ভিডিও ছোট রিলস এগুলো খুব সুন্দর আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করতে পারলে অনেক বেশি রিচ বাড়বে। এবং ফলোয়ার বাড়ার সম্ভাবনা আছে শুধু লেখা পোস্ট না করে তথ্যবহুল ছবি ভিডিও ব্যবহার করতে হবে। তাহলে ফলোয়ার বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। পেজের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কনটেন্ট আপলোড করতে হবে যাতে দর্শকদের আকর্ষণ করে।
এবং বিনোদন দেয় খুব সুন্দর ভাবে কন্টেন্ট তৈরি করতে পারলে এবং একই সময়ে আপলোড করতে পারলে রিচ বাড়ে। এনগেজমেন্ট বাড়ে এবং ফলোয়ার বাড়ে ।ছোট ও আকর্ষণীয় রিলস তৈরি করতে হবে। সেই সাথে বর্তমানে ট্রেন্ডিং যে ট্রপিকগুলো আছে সেই ট্রপিকের উপর রিলস তৈরি করতে হবে।
মনিটাইজেশন অন করে
আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক পেজে ভালো ভিডিও কনটেন্ট পাবলিশ করার মাধ্যমে মনিটাইজেশন অন করে নিতে পারবেন। তাহলে ফেসবুক সেখানে অটোমেটিক অ্যাড প্রদর্শন করবে। তাহলে আপনার ফেসবুক পেজের ভিডিও হোম পেজে ভালো রিচ পাবে ।তখন ধীরে ধীরে পেজের ফলোয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা
আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক আইডি অথবা ফেসবুক পেজের ফলোয়ার বৃদ্ধি করতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। পোষ্টের ভেতরে এক বা একাধিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে হবে ।ব্যবহার করলে সেটা অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। তাহলে আপনার রিচ বৃদ্ধি পাবে। এবং ধীরে ধীরে ফলোয়ার বাড়তে থাকবে।
ফলোয়ার সেটিংস ঠিক করা
পেজের নাম ও ইউআরএল আপনার ব্রান্ড বা ব্যবসার সাথে মিলিয়ে কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। এবাউট সেকশন প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড যোগ করতে হবে, যাতে ব্যবহারকারী সহজে বুঝতে পারে। পেজটি কি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ।
প্রতিটি পোস্টে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।আপনার ফেসবুক প্রোফাইল অথবা পেজের সাথে থাকা থ্রি ডট মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এরপর Follower and public content অপশনে ক্লিক করে Who can follow me অপশনে Public সিলেক্ট করে দিতে হবে ।এতে করে ফেসবুকে থাকা যে কোন ব্যক্তি আপনার আইডি ফলো করতে পারবে।
সঠিক সময়ে এবং নিয়মিত পোস্ট করতে হবে
ফেসবুক পেজে সঠিক সময়ে পোস্ট করতে হবে। নির্দিষ্ট একটা সময় বেছে নিতে হবে যে সময়ে দর্শকরা ফ্রি থাকে এবং ফেসবুকে সক্রিয় থাকে।এ সময়টাকে বেছে নিয়ে পোস্ট করতে পারলে ফেসবুকে ফলোয়ার বাড়বে, সেটা দিনে অথবা রাতে যে কোন সময় হতে পারে। যেমন সকাল ৮টা থেকে ১০টা। দুপুর ১টা থেকে ৩টা, সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা এবং রাত্রে ১০টার পরে। এ সকল সময়ের মধ্যে পোস্ট করলে রিচ বাড়ে। সঠিক সময়ে এবং নিয়মিত যদি আপনি পোস্ট করেন তাহলে অর্গানিকভাবে ফলোয়ার বৃদ্ধি করতে পারবেন। দিনে চারটি পোস্ট করায় সর্বোত্তম। অনেকেই এর চেয়ে বেশি করতে পারেন। তবে যেটাই করবেন প্রতিদিন একই সময়ে এবং নিয়ম অনুযায়ী করা ভালো।
ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে পোস্ট করা এবং লিংকিন করা
বর্তমান সময়ে কোন কোন ট্রপিক গুলো ট্রেডিং এ আছে, এই ট্রেন্ডিং টপিক গুলো নিয়ে
ভিডিও তৈরি করতে হবে। আর ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে পোস্ট করলে পোষ্টের রিচ বাড়বে এবং
ফলোয়ার বাড়বে। ট্রেন্ডিং টপিকের প্রতি দর্শকের আকর্ষণ বেশি থাকে ।তাই সুন্দর
আকর্ষণীয় ভাবে পোস্ট করলে দর্শক আকৃষ্ট হবে। আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক আইডি অথবা
পেজকে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া লিংকিং করতে পারেন। যদি অন্য সোশ্যাল মিডিয়ায়
লিংকিং করেন তাহলে সেখান থেকে অনেক ফলোয়ার পেয়ে যাবেন। ইউটিউব চ্যানেল খুলে
সেখানে আপনার ফেসবুক পেজের লিংক করে দিতে পারবেন। এছাড়াও ইনস্টাগ্রাম ,
টুইটার প্রোফাইলে আপনার ফেসবুক পেজের লিংক প্রচার করতে পারবেন।
ফেসবুকে লাইভ করতে হবে
ফেসবুকে প্রতিনিয়ত লাইভ করতে হবে। তাহলে আপনার দর্শকদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক
ভালো থাকবে। আপনি যখন লাইভে থাকবেন তখন অনেক দর্শক আপনাকে দেখতে পাবে। এবং আপনাকে
দেখার পর আপনার কথা শোনার পরে আপনাকে ফলো করা শুরু করবে।
কমেন্ট ও ইনবক্সে সক্রিয় থাকতে হবে
কমেন্ট ও ইনবক্স এর সক্রিয় থাকতে হবে। কমেন্ট করার সাথে সাথে আপনি তার রিপ্লাই করবেন। এবং ইনবক্সে সক্রিয় থাকবেন। তাহলে আপনার ফলোয়াররা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ ভালো থাকবে।
সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় ক্যাপশন ব্যবহার
আপনার কনটেন্ট তৈরি করার সাথে যখন আপলোড করবেন তখন ক্যাপশনটি সংক্ষিপ্ত আকারে
দিবেন। এবং আকর্ষণীয় ক্যাপশন ব্যবহার করবেন যাতে দর্শকদের নজর কাড়ে। সংক্ষিপ্ত
ও আকর্ষণীয় ক্যাপশন দেখে দর্শকেরা সেখানে ক্লিক করে আর এতে রিচ বাড়ে ।
ফেসবুক অ্যাডস বা বিজ্ঞাপন ব্যবহার করুন
দৃষ্টি কাঁড়া লোগো, ছোট একটি নাম , মনে রাখার মত একটি স্লোগান এবং ব্রান্ড তে কি কি পণ্য ও সেবা পাওয়া যাবে তার তালিকা নিয়ে ছোটখাটো হলেও একটা ক্যাম্পেইন চালিয়ে ব্রান্ডের ব্যাপারে লোকমুখে প্রচারণা শুরু করে দিয়ে এরপর সেটার পেজ চালু করতে হবে। তাহলে দ্রুতই মানুষ সেটা সার্চ করে বের করতে পারবে। এবং ফলো করবে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নয় বরং যোগাযোগের মাধ্যম ও ব্যক্তিগত প্রচারণার জন্য পেজ করতে চাইলে এই নির্দেশনা কাজে লাগবেনা। লোগো, নাম ও স্লোগান বা অ্যাবাউটের লেখা বিবরণ সব ধরনের পেজের জন্য জরুরী। তবে পেজটি কিসের মধ্যে পড়বে সেটা অনুযায়ী পেজের সঠিক লেআউট তৈরি করা, পেজ বুস্টিং বা এড্স ক্যাম্পেন চালিয়ে দ্রুত ফলোয়ার বৃদ্ধি করা যায়।
পেজের রিচ ধরে রাখতে করণীয়
অনেক সময় দেখা যায় কয়েকশো লাইকের পর পেইজের রিচ কমে যায় ।এটার কারণ হিসেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটারদের দায়ী করছেন। মানহীন পোস্ট এবং নিয়মানুবর্তিতার অভাবকে। প্রতিদিন অন্তত দুটি পোস্ট করা উচিত। কিছু ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয়টিও করা যেতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত পোস্ট করলে সেটা স্প্যামিং হিসাবে ধরতেও পারে ।ফেসবুকের অ্যালগরিদম সে ক্ষেত্রে উল্টা রিচ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।লিখিত পোস্টের চেয়ে আকর্ষণীয় ছবি বেশি রিচ পায় ।সে ক্ষেত্রে ছবি বা ভিডিওর ফরমেট কাছাকাছি রাখতে হবে, যাতে সেটা ব্র্যান্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য ধরে রাখতে পারে। এবং অডিয়েন্সের মনে জায়গা করে নিতে পারে। খুব সহজেই একই ফ্রেমিং ও কালার গেডিং করা ছবি ইনফোগ্রাফ এর ক্ষেত্রে কালা বা ডিজাইন ফরমেট ধরে রাখা। ভিডিওর ক্ষেত্রেও সেই ডিজাইন একই ফরমেটে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।লেখার ভাষা ও টোন সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে।
বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষায় পোস্ট করা যেতে পারে। তবে মিশ্রিত ভাষা একেবারেই কাম্য নয়।স্পষ্ঠ কনটেন্ট তৈরি করলেই হবে না, সেটা কোন সময় পোস্ট করতে হবে, সেটার রুটিন তৈরি করা ও জরুরী পোষ্টের ইনসাইট থেকে লক্ষ্য করতে হবে অডিয়েন্স কোন বয়সী , কোন সময় তারা অনলাইনে থাকে এবং কোন সময় পোস্টগুলি তারা বেশি লাইক ও কমেন্ট করে। স্বাভাবিকভাবে একটি উদাহরণ দেখলে আমরা সহজেই বুঝতে পারি, রেস্টুরেন্টের পোস্ট করলে সকালে করার চেয়ে দুপুরে করলেই বেশি রিচ পাওয়া যায়। আবার রাতে জীবনধর্মে পোস্ট বেশি রিচ পেলেও সকালে খাবার জাতীয় পোষ্টের রিচ বেশি থাকে। এধরনের বিভিন্ন কনটেন্ট স্টাটেজি রয়েছে।
পোষ্টের কমেন্টের উত্তর দিতে হবে। এতে পেজের ইন্টারেকশন বাড়বে। পেজে
পোস্টগুলো কমেন্টকারীর বন্ধুদের ওয়ালে সেটা হাজির হবে। ইনবক্সে আসা মেসেজের সঠিক
সময়ে উত্তর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটো জিনিসকেই পেজের একটিভিটি হিসেবে
দেখে থাকে ফেসবুক অ্যালগরিদম। সহজ উপায় হচ্ছে পোস্টের কমেন্ট করার জন্য উৎসাহিত
করা। লাইভ ভিডিওতেও দ্রুত পেজের ইন্টারেকশন বৃদ্ধি পায়।
ফেসবুকে ফলোয়ার কমে যাওয়ার কারন কি ?
ফেসবুকে ফলোয়ার কমে যাওয়ার কিছু সাধারন কারণ রয়েছে। যেমন-
- দীর্ঘদিন ফেসবুক আইডি বা প্রোফাইলে সক্রিয় না থাকলে ধীরে ধীরে ফলোয়ার সংখ্যা কমতে থাকে
- ফেসবুক পেজের কনটেন্ট গুলো যথেষ্ট মানসম্মত না হলে কিংবা রিচ না পেলে ধীরে ধীরে ফলোয়ার কমতে থাকে।
- ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলে তারা ফলোয়ার থেকে আপনার ফ্রেন্ড এ পরিণত হবে
- ফেসবুক পেজের ফলো করার অপশনটি বন্ধ করে দিলে ফলোয়ার সংখ্যা কমে যায়
- আপনার পেজের কনটেন্ট যদি কপি কনটেন্ট হয় তাহলে ধীরে ধীরে অডিয়েন্সের আগ্রহ কমে যায় তখন ফলোয়ার কমতে থাকে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- প্রশ্নঃ ফেসবুকে লাইক ও ফলো এর মধ্যে পার্থক্য কি
- উত্তরঃ কোন ফেসবুক পেজকে শুধু ফলো করলে সেই পেজকে লাইক করা হয় না। কিন্তু ফেসবুকে লাইক করার অর্থ হচ্ছে পেজটিকে একাধারে লাইক ও ফলো করা। এজন্য অনেক পেজের ফলোয়ারদের চেয়ে লাইক সংখ্যা কম।
- প্রশ্নঃ Facebook ফ্রেন্ড ও ফলোয়ার এর মধ্যে পার্থক্য কি ?
- উত্তরঃ আমাদের ফেসবুক প্রোফাইলে যারা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়, আমরা একসেপ্ট করি সেগুলো হচ্ছে ফেসবুক ফ্রেন্ড। অন্যদিকে যারা আমাদের ফলো করে অথবা আমাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে রেখেছে, আমরা একসেপ্ট করিনি তারা হচ্ছে ফলোয়ার। ফলোয়ার রাও বন্ধুর মতই পোস্টে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করতে পারে।
- প্রশ্নঃ ফেসবুক পেজে ফলোয়ার কিভাবে বানাবো ?
- উত্তরঃ জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজে নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট পোস্ট সঠিকভাবে আপলোড করতে হবে। তাহলে ফলোয়ার বাড়ানো সম্ভব হবে।
- প্রশ্নঃ ফেসবুক পেজে কত ফলোয়ার হলে টাকা ইনকাম করা যায় ?
- উত্তরঃ জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করা ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম সরাসরি মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে টাকা আয়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফলোয়ার ও কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এক হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে, এছাড়া অন্যান্য ক্রাইটেরিয়া পূরণ হলে মনিটাইজেশন অন হবে।
- প্রশ্নঃ অর্গানিক ফলোয়ার কি ?
- উত্তরঃ ফেসবুক পেজের সঠিক এলগরিদম মেনে কোন ব্যক্তি যদি আপনার আইডি বা পেজ ফলো করে তবে সেটি হবে অর্গানিক ফলোয়ার। যে পেজে অর্গানিক ফলোয়ার যত বেশি হবে সেই পেজটি তত স্ট্রং হবে।
আমাদের শেষ কথাঃ ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর কার্যকরী উপায়
বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রচার সব ক্ষেত্রে
ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ।তবে ফেসবুক পেজ অথবা প্রোফাইল খোলা
নয় ,সেটাকে সার্চ ইঞ্জিনও ফেসবুকের এলগরিদমে দৃশ্যমান করার জন্য প্রয়োজনীয়
সঠিক কাজ করা জরুরী। আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি করা, রিলস ভিডিও তৈরি করা , গ্রুপ
কমিউনিটিতে একটিভ থাকা , সঠিক সময়ে পোস্ট করা , ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে পোস্ট
করা , ফেসবুক পেজ বুস্ট করা , মনিটাইজেশন অন করা , হ্যাশট্যাগ এর ব্যবহার ,
পেজের রিচ ধরে রাখতে করণীয় কি সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা
হয়েছে।
এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এ আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয়-স্বজন সকলের কাছে শেয়ার করবেন। কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্টে আপনার মতামত জানাবেন। আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো আর্টিকেল লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url